spot_imgspot_img

আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবি গোলাম পরওয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং রিমান্ড বাতিল করে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

- Advertisement -

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ অক্টোবরের ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে সমস্যার কথা স্বীকার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামান কথা বলেছিলেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনায় করা মামলায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে থাকা জামায়াতের সংসদ সদস্য কামাল হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি। তার বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজেও বিষয়টি দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়ারও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে এভাবে আদালতে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, আখতারুজ্জামান নিজ বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গিয়েছেন। তাহলে তাকে হেলমেট পরানোর প্রয়োজন কেন হলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কারাবিধির আওতায় গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আখতারুজ্জামানের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বিমানবন্দরের ঘটনার পর অনেক যাত্রী লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিলেন। তার ভাষ্য, ভিআইপি যাত্রী হিসেবে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা তিনি নাগরিক অধিকারের অংশ বলে মনে করেন।

সমাবেশে সরকারের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করছেন। এসব বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ারের দাবি, অতীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ সময় একসঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছে এবং চারদলীয় জোটেও তারা অংশীদার ছিল। সে সময় জামায়াতকে নিয়ে বর্তমানের মতো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার বা গণহত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করার রাজনৈতিক দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে কিছু বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভাষার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে।

দিল্লির সঙ্গে সরকারের কোনো গোপন যোগাযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন গোলাম পরওয়ার। তবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনীতি করছে এবং কোনো পক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানের মিল থাকলে তা নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই বিচার করা হবে।

সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের স্বার্থে সরকার ভালো উদ্যোগ নিলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে। আর দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তার বিরোধিতা করা হবে।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ