যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের একটি ছবি প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। শনিবার ছবিটি প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছবিটি হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যাওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্মানে গত ২২ সেপ্টেম্বর এ নৈশভোজের আয়োজন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সে সময় নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
মেলানিয়ার বিশেষ বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প। বৈঠকে শিশুদের কল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ তুলে ধরা হয়।
এ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডিদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মেলানিয়া ট্রাম্প।
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ।
ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। দেশ পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই তিনটি বিষয়কে ভিত্তি করে ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা জানান তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তারেক রহমান। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনকে সংকট সমাধানের পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান।
এ ছাড়া স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউইয়র্ক সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।




