মো.মোক্তার হোসেন বাবু: অতিরিক্ত কমিশন ও বিভিন্ন ধরনের চার্জ কমানোসহ ব্যবসায়িক শর্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে চট্টগ্রাম শহরে ফুডপান্ডার সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে নগরের ছোট-বড় সব রেস্তোরাঁয় ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সমিতির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কমিশন ও নানা চার্জের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এসব ব্যয়ের প্রভাব খাবারের দামের ওপর পড়ছে বলেও দাবি তাদের।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা বলেন, অনলাইন খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে ফুডপান্ডা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। তবে কমিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চার্জ আরোপের কারণে রেস্তোরাঁগুলোর প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না হওয়ায় সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থের পাশাপাশি ভোক্তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বর্তমান কমিশন ও চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা হলে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পরিশোধ না করা, পণ্য নষ্টের অজুহাতে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি এবং চুক্তির বাইরে বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ব্যবসায়ী ও ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির পৃথক চারটি মামলা করেন। মামলার পর গুলশান থানা পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারিন রেজা, সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান দিলারা ফারুক এবং জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
তবে এসব মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, রেস্তোরাঁ ও অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম-দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকলেই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক টেকসই হবে। তাই ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কমিশন ও অন্যান্য চার্জের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ৫ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম শহরের রেস্তোরাঁগুলো ফুডপান্ডার সেবা থেকে বিরত থাকবে।




