চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির সংগঠক মো. দিদারুল হক বাপ্পি আহত হয়েছেন।
ঘটনার সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে তাদের ফোন ফেরত দেওয়া হলেও একটি ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা বেগম স্বপ্না সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সেখানে যান চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপির সংগঠক দিদারুল হক বাপ্পি আহত হন।
ঘটনাস্থলে সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করছিলেন দৈনিক কালবেলার সাতকানিয়া প্রতিনিধি মো. মিনহাজ উদ্দিন। তার অভিযোগ, ভিডিও করার একপর্যায়ে জামায়াতের কয়েকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং তাকে হেনস্তা করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও সেটি ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। তখন কয়েকজন তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন এবং তাকে হেনস্তা করেন। পরে ভাঙচুর করা ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকায় গেলে সেখানেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। ওই সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় অনলাইন সাংবাদিক মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তার ফোনটিও ফেরত দেওয়া হয়।
মাকছুদুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষ্য, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিলেন। বিষয়টি ভিডিও করার সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে ফোনটি ভাঙা অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়ে তাদের এক কর্মীকে আহত করেছেন। একই সময়ে সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে সাংগঠনিক বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে সাতকানিয়া পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির হামিদ উদ্দিন আজাদ বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসপাতালে গেলে তাকে সাক্ষাৎ করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়। সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালে কিছুটা হট্টগোলের ঘটনা ঘটলেও তার কার্যালয়ে কোনো ধরনের উত্তেজনা হয়নি। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আগে একটি ব্রিজ উদ্বোধন করায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেখানে যাননি। একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়টি সার্কেল অফিসারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

