তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকারের সঙ্গে জামায়াত আমিরের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুরস্কের পার্লামেন্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।

বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নতুন অগ্রযাত্রাকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবদানের প্রশংসা করেন বলেও জানানো হয়।

জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংকট। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান।

রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের সরকার ও জনগণের অব্যাহত মানবিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি বিশেষ চিঠিও পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। শফিকুর রহমান তুরস্কের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল রাজনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, সংসদীয় কার্যক্রম, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য এবং মানবিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

শফিকুর রহমানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান এবং চিকিৎসক ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।

সর্বশেষ