বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি গ্রেপ্তার, মাসে পেতেন ৫০ হাজার টাকা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম:
spot_img
মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, কারাবন্দি ডেভিড ইমনের অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সানিকে। এ কাজের বিনিময়ে বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে পেতেন তিনি।

- Advertisement -

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সানি বড় সাজ্জাদের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। একসময় বিদেশে অবস্থান করলেও বড় সাজ্জাদের নির্দেশে গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে সানি নিজেই মাসিক ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এই চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের দিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান ও নজরদারি চালিয়ে সানির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ৩০ অক্টোবর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এসেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে সানির সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় পরিচালিত চক্রের অনেক সদস্য চট্টগ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ