যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দেড় শতাধিক আফগান অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ তালিকায় এমন অনেক আফগান রয়েছেন, যারা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন এক কর্মকর্তা এবং সাবেক সেনাসদস্য ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি জোটের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫০ জনের বেশি আফগান নাগরিককে বহিষ্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একযোগে এতসংখ্যক আফগানকে ফেরত পাঠানোর ঘটনা বড় উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে।
জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কয়েক ডজন আফগান অভিবাসীকে আটক করেছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম পর্যায়ের বহিষ্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবারের মধ্যেই একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতে পারে।
আফগান অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠন ‘আফগান ইভাক’-এর প্রধান শন ভ্যানডাইভার জানিয়েছেন, ফেরত পাঠানোর তালিকায় থাকা অনেকেই তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তান ছেড়েছিলেন। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের পরিবারের সদস্যরা একসময় মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে দেশে ফিরে তারা তালেবানের প্রতিশোধের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিবাসীকে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তালেবান সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সরাসরি প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বহিষ্কার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এ নীতির সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে অভিবাসীদের যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, চলমান অভিযান ও নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতে কাদের বহিষ্কার করা হবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হবে না।
শন ভ্যানডাইভার এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আফগান অভিবাসীদের জন্য সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের আইনি সুরক্ষা কার্যকর হলে ঝুঁকির মুখে থাকা আফগানদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান থেকেও বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি আফগানকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। ফলে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

