দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার পর এবার সরাসরি বৈঠকে বসার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দুই দেশের সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং তেহরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নে চীন ও রাশিয়াকে নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা কমানোই ছিল এ আলোচনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
এদিকে কাতারের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি ইরানের আলোচকরাও দোহায় পৌঁছেছেন। সেখানে শনিবার আবারও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে নতুন কোনো সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও পুরোপুরি কাটেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে একদিকে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা—দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দোহার সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত প্রশমনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আল-আরাবি আল-জাদিদ, অ্যাক্সিওস ও দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

