শিশু-কিশোরদের পরিবেশ সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও এর আশপাশের পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন কর্মসূচির মাধ্যমে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এ উপলক্ষে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।
উদ্যোগটির বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের শুধু মোবাইল ফোনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত করানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণী আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ চলছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। এ কাজে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে পারে এমন প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল এবং ডাবের খোসা ফেলে না রাখার আহ্বান জানান তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
জেলা প্রশাসক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা পরিষ্কার করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ কর্মসূচিতে ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
এ ছাড়া কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধেও অভিযান চলছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ এবং সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

