রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আদালতে এ আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, হাফিজ তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন, অর্থ সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা। পাশাপাশি ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ, ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার অন্য সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করতে চায় তারা। একই সঙ্গে কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত গোপন পেজ ও ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের।
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ডিবির পরিদর্শক মো. আলী আকবর। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী গুলশান আরাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।

