spot_imgspot_img

বুরকিনা ফাসোকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে আর্জেন্টিনার ৭-০ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক :
spot_img

স্পোর্টস ডেস্ক : প্রীতি ম্যাচ হলেও মাঠের লড়াইটা যেন ছিল একতরফা প্রদর্শনী। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে দাঁড়াতেই দিল না আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ৭-০ গোলে।

- Advertisement -

আর্জেন্টিনার এই জয়ে গোল করেছেন লাওতারো মার্তিনেজ, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি, নিকো পাজ, হুলিয়ান আলভারেজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও জুলিয়ানো সিমিওনে। এর সঙ্গে ম্যাচের শুরুতেই বুরকিনা ফাসোর মাউমানি দিয়ালো আত্মঘাতী গোল করায় গোলের সংখ্যা দাঁড়ায় সাত।

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। মাত্র চার মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। চার মিনিট পরই আসে আত্মঘাতী গোল। এরপর ১২ মিনিটে প্রেস্তিয়ান্নি, ৩৫ মিনিটে নিকো পাজ এবং ৩৬ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করলে প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন হয়ে যায় ৫-০।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কিছুটা গতি কমিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। তবু বুরকিনা ফাসোকে স্বস্তি দেয়নি তারা। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ৫৭ মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন। যোগ করা সময়ে জুলিয়ানো সিমিওনের গোলে পূর্ণ হয় আর্জেন্টিনার সাত গোলের উৎসব।

পরিসংখ্যানও ম্যাচের একতরফা চিত্রটি স্পষ্ট করে। প্রথমার্ধে বুরকিনা ফাসোর গোলমুখে ১১টি শট নেয় আর্জেন্টিনা। বিপরীতে আফ্রিকার দলটি প্রথম ৪৫ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি। বল দখলেও ছিল আর্জেন্টিনার বড় আধিপত্য। প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তারা। পুরো ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর শট ছিল মাত্র একটি, দ্বিতীয়ার্ধে।

তবে বুরকিনা ফাসোর এমন অসহায় পারফরম্যান্সের পেছনে ছিল বড় কারণ। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তারা জানত না, আদৌ আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে পারবে কি না। মরক্কো থেকে তাদের প্রথম চার্টার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। বিমানবন্দরে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন দলের খেলোয়াড়েরা। এমনকি দলটির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানও চুক্তি বাতিল করতে চেয়েছিল বলে জানা যায়।

শেষ পর্যন্ত বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা হলেও বিপাকে পড়ে বুরকিনা ফাসো। জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে কোচ আমির আব্দোউ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজান। মূল জাতীয় দল থেকে কেবল মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়াকে পাওয়া যায়।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, কাসাব্লাঙ্কা থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেওয়া দলটি ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে দেশটিতে পৌঁছায়। প্রায় ৯ হাজার ২৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাদের সময় লাগে ১১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সরঞ্জাম পাঠানো হয় মাঠে। খেলোয়াড়েরা অল্প সময়ের জন্য হোটেলে গিয়ে এরপরই মাঠে নামেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের লড়াই যে কঠিন হবে, তা অনুমেয়ই ছিল। ম্যাচের শুরুতে বুরকিনা ফাসো দলকে গ্যালারি থেকে করতালির মাধ্যমে স্বাগতও জানান আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি অবশ্য ছিল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরীক্ষাও। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে ছাড়া দলের শক্তি ও বিকল্পগুলো যাচাই করছেন। সে কারণেই মূল একাদশের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে একে একে তুলে বদলি খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন তিনি।

আলভারেজের জায়গায় নামা মাস্তানতুয়োনো গোল করে নিজের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। যোগ করা সময়ে সিমিওনের গোলও স্কালোনির পরীক্ষাকে সফল করেছে। আলভারেজের গোলটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চলতি মৌসুমে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এটি প্রথম গোল। গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপনে উঠে আসে মেসির স্মৃতি।

নিকো পাজও আবার দেখিয়েছেন কেন তাঁকে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলিভিয়ার বিপক্ষে আগের প্রীতি ম্যাচেও গোল করা এই তরুণ বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষেও দারুণ এক গোল করেছেন।

স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার এটি যৌথভাবে সবচেয়ে বড় জয়। ২০২৩ সালে কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও ৭-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

তবে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা বিবেচনায় এই জয়কে খুব বড় পরীক্ষার ফল বলা যাবে না। বরং মেসিকে ছাড়া দলের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর দিয়েছে এই ম্যাচ। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ এবং বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০—দুই প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা করেছে ১১ গোল।

আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার শেষ প্রীতি ম্যাচ বেনিনের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার ভোর ৫টায় মাঠে নামবে দুই দল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেটিই হবে মেসির শেষ ম্যাচ। তার আগে টানা দুই ম্যাচে গোলের উৎসব স্কালোনির জন্য অন্তত একটি স্বস্তির বার্তা—মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ