spot_imgspot_img

আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর, এজলাসে উত্তেজনা—বাইরে হাতাহাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

রোববার এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক কিছু সময়ের জন্য এজলাস ত্যাগ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, প্রতিবাদ করা অপরাধ নয়; তবে প্রতিবাদের ধরন বা পদ্ধতি সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে। তার অভিযোগ, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামান কামাল উদ্দীন নামের এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে অপমান করেছেন। এ ছাড়া জমজমের পানি নিক্ষেপের ঘটনাটিও পরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, আখতারুজ্জামান জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তার জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

আদালতে দেওয়া আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এক দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আখতারুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে তাকে কারাগারে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিনের আবেদন করে বলেন, বিমানবন্দরের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার মক্কেল সেখানে গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথাযথ ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আখতারুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্ধারিত যেকোনো শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশের পর এজলাসে দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেন। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে স্লোগান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

আদালত ভবনের বাইরেও উত্তেজনা

আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। শুনানি চলার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিচারক সাময়িকভাবে এজলাস থেকে নেমে যান।

এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে সিএমএম আদালত ভবনের সামনে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ এবং উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এর আগে রোববার দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। সেখানেই শুরু হয় তার জামিন শুনানি, যা শেষ হয় জামিন নামঞ্জুর এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের মধ্য দিয়ে।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ