বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর ও সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য, পণ্য পরিবহন, বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতা কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানি করলেও পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি পাকিস্তান থেকে পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও রং আমদানি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশি পাটের সুতা ও ওষুধের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এসব প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তান সফরের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইমরান হায়দার জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান সফর করলে তাদের দেশটির বড় আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা কীভাবে ধরে রাখা যায়, তা নিয়ে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা হয়।
বাণিজ্য বাড়াতে শুধু বাজার সুবিধা নয়, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বর্তমানে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ সময় কমাতে শিপিং ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
শিল্পখাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং টেক্সটাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উভয়পক্ষই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




