সুস্থ থাকতে সাইকেল চালানোর বিকল্প নেই: আমীর খসরু

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে গড়ে তোলার আহ্বান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে আরও সাইকেল ট্র্যাক এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাইকেল চালানো কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়। পরিবেশবান্ধব এই বাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পথ তৈরি করা প্রয়োজন।

- Advertisement -

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) সড়কের উন্নয়ন ও দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে। তাই নাগরিকদের জন্য নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পথ, হাঁটার জায়গা এবং উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নির্মিত এ সাইকেল ট্র্যাককে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের নতুন পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর সড়কের এই উদ্যোগ কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ দৈনন্দিন চলাচল, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ পান।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ। এ কারণে নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত স্থানগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য গর্বের বিষয়। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাইকেল চালানো এবং হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

চট্টগ্রামের বড় সড়কগুলোর পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। খালের দুই পাড়ে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চলাচলের সুবিধা ও সবুজায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব

উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতারা।

সর্বশেষ