ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হতাহতের এ তথ্য জানায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানীয়, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চলতি সপ্তাহে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আল-বুখাইতি বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা ক্ষতিসাধন করা উচিত নয়—এ বার্তা বিশ্বকে দিতেই হুথিরা এ হামলা চালিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইয়েমেনের বেসামরিক স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নীতি প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
এদিকে হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

