ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। একই সঙ্গে তামিলনাড়ু থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন মুরুগান। জাতীয় রাজনীতিতে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে এখন নিজ রাজ্য তামিলনাড়ুতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশি সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তামিলনাড়ুতে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে চান
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এল মুরুগান জানিয়েছেন, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তিনি পূর্ণ সময় দিতে চান। এ জন্য দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন মুরুগান। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত ও তামিলনাড়ুর সেবা করতে পারাকে জীবনের বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই পোস্টে তিনি জানান, এখন তৃণমূল পর্যায়ে ফিরে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে শক্তিশালী করতে নিজের পুরো সময় উৎসর্গ করতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় স্বার্থ, দলীয় দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনার মধ্যে পদত্যাগ
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলার মধ্যেই মুরুগানের পদত্যাগের ঘোষণা সামনে এসেছে। এর আগে জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও রাজ্যসভার সদস্যের পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে মুরুগানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া।
২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুতে দলকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুরুগান এখন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

