নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার আয়োজিত এ নৈশভোজে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বনেতাদের এ মিলনমেলা জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমবেত হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এ সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, নৈশভোজ ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে বিশ্বনেতারা পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির আয়োজিত নৈশভোজকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতরাশ অনুষ্ঠানটিও অধিবেশনের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এতে বিশ্বনেতারা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে মতবিনিময়ের সুযোগ পান, যা পারস্পরিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করছে।




