মো. মোক্তার হোসেন বাবু : কাগজপত্রে এক প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক পণ্য। কাস্টমস নথিতে কোথাও চিবানোর তামাক ও জর্দা, আবার কোথাও প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কায়িক পরীক্ষায় চালানটির এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে দেখানো অথৈ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এই আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না।সিআইআইডি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে কোনো অসাধু চক্র চালানটি দেশে এনেছে বলে আশঙ্কা করছেন অথৈ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। চালানটির সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠান কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।কাস্টমস নথি অনুযায়ী, Manifest No. 4524/2026 এবং Voyage No. 011-এর আওতায় কলকাতা থেকে MV UDDIPON EXPRESS জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রামে আসে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই Master B/L 301174347-এর আওতায় দুটি House B/L-এর মাধ্যমে পণ্য আমদানি দেখানো হয়।প্রথম House B/L নম্বর ISLCCU2627CGP095। এতে পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয় “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)”। নথিতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন দেখানো হয়েছিল ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কায়িক পরীক্ষায় ওই চালানের ৪৭০ প্যাকেজে পাওয়া যায় ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী। এর মধ্যে Dark Brown রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, Brown রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, Grey রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং White রঙের ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে।পরীক্ষায় পাওয়া বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত সামগ্রীর কিছু অংশ বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো বলে মনে হয়েছে। তবে এসব সামগ্রীতে আদৌ কোনো মাদকদ্রব্য, নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নমুনা রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই পণ্যগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।অন্যদিকে দ্বিতীয় House B/L নম্বর ISLCCU2627CGP096। এতে পণ্যের ঘোষণা ছিল “PRINTED PAPER CATALOGUE”। কাগজপত্রে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় এসব প্যাকেজে পাওয়া যায় সন্দেহজনক Scrap Paper। এর ওজন ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন।অর্থাৎ আমদানি নথিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। এ কারণে চালানটির ঘোষণা, আমদানিকারকের পরিচয় এবং পণ্যের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় এসেছে।দুটি House B/L মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।চালানটির সঙ্গে প্রকৃত আমদানিকারকের সম্পর্ক, অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি এবং ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসামঞ্জস্য কীভাবে তৈরি হয়েছে-এসব বিষয় এখন তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে নমুনার ফলাফল পাওয়ার পর পাউডারজাত সামগ্রীর প্রকৃত পরিচয়ও স্পষ্ট হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭.৫ টন সন্দেহজনক পণ্যের চালান আটক
মো. মোক্তার হোসেন বাবু :




