spot_imgspot_img

বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

- Advertisement -

বুধবার ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই নিম্নমুখী ছিল।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৮ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে নেমে আসে।

সৌদি আরব লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনে আবারও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু করায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হওয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের আশাও জোরালো হয়েছে। এসব বিষয় তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেয়ার’ হুমকি দেন। একই সময়ে তিনি জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের উদ্যোগ বাজারে আশাবাদ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর ওই দিনই প্রথমবার ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বেশি আশাবাদ তৈরি হয়েছে’। তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। ‘ধ্বংস করে দেয়ার’ হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিচ্ছে।’

এদিকে মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে দেশটির ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। পাইপলাইনটি পুনরায় চালু হওয়ায় এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ। মঙ্গলবার তিনি জানান, ইরাক বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। পাশাপাশি তুরস্কের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করার আশাও প্রকাশ করেছে দেশটি।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ