আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বক্তব্যে তিনি ইরানের ওপর হামলা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং গাজা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরুর পরপরই মার্কিন প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তার ভাষণে আলোচিত প্রধান বিষয়গুলো ছিল—
১. ইরান ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড এবং মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করেন। বক্তব্যের সময় তিনি হামলায় নিহত ভুক্তভোগী শিশুদের ছবিও প্রদর্শন করেন।
২. বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধির ওয়াকআউট
ইরানের প্রেসিডেন্ট ভাষণ শুরু করার পরপরই মার্কিন প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। ঘটনাটি পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় উল্লেখযোগ্য দৃশ্য হিসেবে উঠে আসে।
৩. স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, তাদের হামলায় ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪. বেসামরিকদের লক্ষ্য না করার দাবি
ইরানের ওপর মার্কিন হামলার জবাব দেওয়ার প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, তেহরান কখনো বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।
৫. পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান
ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে চায় না বলে স্পষ্ট করেন পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে ইরান কখনো সরে দাঁড়াবে না।
৬. মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞারও কঠোর সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর।
৭. ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পেজেশকিয়ান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের নজরদারির বাইরে থাকা ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বিপরীতে ইরানের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা হত্যা করছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে ইরান।
৮. গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে গাজার পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার একটি প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তার ভাষণে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে আসে।
৯. ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা
ভাষণের শেষদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান কখনো মাথা নত করবে না এবং হাঁটু গেড়ে আত্মসমর্পণ করবে না।
জাতিসংঘের মঞ্চে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে এভাবেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, পরমাণু কর্মসূচি, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও গাজা সংকটসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যু গুরুত্ব পায়।




