spot_imgspot_img

জান্তা-আরাকান আর্মির সংঘাতের আঁচ বাংলাদেশ সীমান্তে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ছে।

- Advertisement -

রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে সহায়তার পরিমাণও কমে আসছে। ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যাশা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক মহল আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, তার সংস্থার প্রতিনিধিরা কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নিয়েছেন। এসব সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোর কাছে দেওয়া হচ্ছে।

কৌমুজিয়ান আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাবলিতে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘটিত সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ সময় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএমের প্রতিনিধি দল সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে এ রায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ