পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, বাসযোগ্য এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানুষের বসবাসের উপযোগী নগর গড়ে তোলাই বিশ্ব বসতি দিবসের অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ ধারণাকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বাস্তবতায় এবারের জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তারেক রহমান বলেন, আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম নগর উন্নয়নের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মানুষের বসবাসের জন্য শুধু একটি ঘর থাকাই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার নিশ্চয়তাও আবাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, পরিবেশদূষণ, নাগরিক সেবার ঘাটতি, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনের মতো সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি বস্তিবাসীদের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত নগরায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব অঞ্চলে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে অগ্রগতি সম্ভব হবে।
তবে টেকসই আবাসন ও নগরায়ন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে শহর কিংবা গ্রাম—সব জায়গার মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।




