spot_imgspot_img

মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে সাজছে আর্জেন্টিনার ফুটবল মঞ্চ

স্পোর্টস ডেস্ক :
spot_img

স্পোর্টস ডেস্ক : আর মাত্র একটি ম্যাচ। এরপরই আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দুই দশকের বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। বেনিনের বিপক্ষে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই মহাতারকা। বুয়েন্স আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচটি তাই শুধুই একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হয়ে উঠছে আবেগঘন এক বিদায়মঞ্চ।

- Advertisement -

নিজ দেশের জার্সিতে শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনেও নেমেছেন মেসি। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে অনুশীলন শুরু করে আর্জেন্টিনা। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সোমবার শেষ প্রস্তুতি নেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের আগে মেসি ও স্কালোনির সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদায়ী ম্যাচটিকে আরও বিশেষ করে তুলতে মেসির জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ নকশার জার্সি। আকাশী-সাদা সেই জার্সির মাঝখানে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্য। মেসির নাম ও ১০ নম্বর লেখা হবে সোনালি রঙে। ম্যাচ শেষে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জার্সিটি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় জায়গা করে নেবে।

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি পেয়েছেন অসংখ্য সাফল্য। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পরও আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁকে ঘিরে ছিল ভক্তদের প্রত্যাশা। এবার ঘরের মাঠে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে মুখিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই দিন আগে দেশে ফেরেন মেসি। এরপর শুক্রবার নিজের শহর রোজারিওতে যান তিনি। পরিবারের সঙ্গে সেখানে সময় কাটিয়ে রোববার বুয়েন্স আইরেসে ফেরেন এবং জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি রোজারিওতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।

মেসির জাতীয় দলের সতীর্থরাও তাঁর বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও তৈরি করেছেন দলের খেলোয়াড়েরা। সেখানে ক্রিশ্চিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো জানিয়েছেন, মেসির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

মেসিকে বিদায় জানানোর আয়োজনকে আরও বড় করে তুলেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদেরও এই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এএফএ সভাপতি জানিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপে মেসির সতীর্থ থাকা সবাইকে পরিবারসহ ম্যাচটি দেখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে মনুমেন্তালে তৈরি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপজয়ী প্রজন্মের এক আবেগঘন পুনর্মিলন।

মেসির বিদায়ের আগে অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তাঁকে ছাড়া সর্বশেষ ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে দলটি। এরপর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে সাত গোলের বড় জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে এসব ফলাফল ছাপিয়ে এখন সবার দৃষ্টি মেসির শেষ ম্যাচের দিকে।

জাতীয় দলের হয়ে মেসির পথচলা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। একসময় ব্যর্থতা ও হতাশার ভারে জর্জরিত ছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই মেসিই হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আশা। কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা দেন নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে।

বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দলের জার্সির জন্য তিনি সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার মানুষ যেন ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারেন, সেটিই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

ভক্তদের উদ্দেশে মেসি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ দুই দশক ধরে পাওয়া ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। মাঠের ভেতর থেকে সমর্থকদের যে উচ্ছ্বাস শুনেছেন, সেটিও তিনি মিস করবেন। তবে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ালেও বাইরে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরিবার, সতীর্থ, কোচ ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দীর্ঘ যাত্রায় পাওয়া সাফল্য ও স্মৃতিগুলোকে জীবনের অমূল্য অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

এখন অপেক্ষা শুধু সেই মুহূর্তের। মনুমেন্তালের সবুজ মাঠে আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে শেষবারের মতো দেখা যাবে লিওনেল মেসিকে। বাঁ পায়ে বল, গ্যালারিজুড়ে লাখো কণ্ঠের উচ্ছ্বাস আর চোখে বিদায়ের আবেগ—বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই হয়ে উঠতে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ