হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ফিরে না গেলে জাহাজটিতে হামলা চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ট্যাঙ্কারটির গতিপথ আটকে দেওয়া হয়। এ সময় আইআরজিসির পক্ষ থেকে জাহাজটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করলে হামলার হুমকি পাওয়ার পর ট্যাঙ্কারটির ক্যাপ্টেন শেষ পর্যন্ত দিক পরিবর্তন করে ফিরে যান।
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়।
হরমুজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজকে সরাসরি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ এবং নির্দেশ অমান্য করলে হামলার হুমকির ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সংঘাতের পর থেকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরানের অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষ করে তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে এখানে নৌ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক পরিবহনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করার ঘটনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।




