চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পেরিয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮ দশমিক ৯৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭ দশমিক ৭২৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অক্টোবরে রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন
অক্টোবরের শুরুতেও দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল বেশ শক্তিশালী। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র চার দিনে দেশে এসেছে ৩৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৪১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের প্রথম চার দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ।
এর মধ্যে ৪ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের গতি দেখা গেছে।
অর্থনীতিতে স্বস্তির সম্ভাবনা
প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রেমিট্যান্স বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ থাকে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে সেই চাপও কিছুটা কমতে পারে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি এবং অক্টোবরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের বড় উল্লম্ফন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই প্রবাহ ধরে রাখা গেলে রিজার্ভ পরিস্থিতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের চাপও কমাতে সহায়তা করবে।




