সালমানের নায়িকা থেকে অন্তরালে, কেন বলিউড ছাড়লেন আয়েশা?

বিনোদন ডেস্ক:
spot_img

একসময় বলিউডের পর্দায় নিজের অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন আয়েশা টাকিয়া। অল্প বয়সে মিউজিক ভিডিওতে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন হিন্দি চলচ্চিত্রে। ‘টারজান: দ্য ওয়ান্ডার কার’, ‘ডোর’ এবং ‘ওয়ান্টেড’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। বিশেষ করে সালমান খানের বিপরীতে অভিনীত ‘ওয়ান্টেড’ ছবির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু ক্যারিয়ারের ভালো সময়েই অভিনয় থেকে ক্রমশ নিজেকে সরিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। এখন কী করছেন আয়েশা, কীভাবে কাটছে তাঁর দিন?

- Advertisement -

মিউজিক ভিডিও থেকেই পরিচিতি

অভিনয়জগতে পা রাখার আগেই মডেলিংয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলেন আয়েশা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে নজরে আসেন তিনি। শাহিদ কাপুরের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

তবে ফাল্গুনী পাঠকের জনপ্রিয় গান ‘মেরি চুনার উড় উড় যায়’-এর মিউজিক ভিডিও আয়েশাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘শেক ইট ড্যাডি’ মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই বিনোদনজগতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী।

বলিউডে অভিষেকেই সাফল্য

২০০৪ সালে ‘টারজান: দ্য ওয়ান্ডার কার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে আয়েশার। ছবিতে বৎসল শেঠের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন।

এরপর ‘সোচা না থা’ ও ‘ডোর’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দেন আয়েশা। বিশেষ করে ‘ডোর’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তিনি।

সালমানের বিপরীতে ‘ওয়ান্টেড’

আয়েশার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ওয়ান্টেড’। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় এবং সালমানের ক্যারিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই ছবির সুবাদে আয়েশার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, সামনে আরও বড় পরিসরে বলিউডে কাজ করবেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেই পথে আর এগোননি অভিনেত্রী। জনপ্রিয়তা বাড়ার সময়েই ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয় তাঁর।

বিয়ের পর বদলে যায় জীবনের গতিপথ

২০০৯ সালের ১ মার্চ রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ফারহান আজমিকে বিয়ে করেন আয়েশা। বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। এরপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেন তিনি।

২০১১ সালে নাগেশ কুকুনূরের ‘মোড়’ ছবিতে অভিনয় করেন আয়েশা। তবে এরপর থেকে বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি স্বামীর রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দম্পতির একটি ছেলে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়েশার জীবনে পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিসর বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। তবে তিনি স্থায়ীভাবে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য না থাকলে বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

চেহারার পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছেন আয়েশা। বিশেষ করে তাঁর চেহারার পরিবর্তন নিয়ে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা হয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং প্লাস্টিক সার্জারির প্রসঙ্গ তুলেছেন।

তবে এসব মন্তব্যের সত্যতা বা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে চেহারা নিয়ে আলোচনা কিংবা বিয়েকে তাঁর অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার নিশ্চিত কারণ হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না।

এখন কেমন কাটছে আয়েশার জীবন?

একসময় বলিউডে সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আয়েশা টাকিয়াকে এখন আর নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি মূলত পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ব্যস্ত। তবে তাঁর দৈনন্দিন জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা নতুন কোনো ছবিতে ফেরার বিষয়ে সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত।

আয়েশার অভিনয়জীবন হয়তো প্রত্যাশিত দীর্ঘতা পায়নি, কিন্তু ‘ডোর’ ও ‘ওয়ান্টেড’-এর মতো ছবির মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে আবার বড় পর্দায় ফিরবেন কি না, তা নিয়ে দর্শকের কৌতূহল এখনও রয়েছে। আপাতত বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া থেকে দূরে থেকেই নিজের জীবন কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

সর্বশেষ