বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি পদে আবারও বসার দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি ফিফার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজেদের সংস্থার নেতৃত্বে থাকার পরিকল্পনা করায় ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
তবে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পদে ইনফান্তিনোর যাত্রা খুব একটা নির্বিঘ্ন ছিল না। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। এ নিয়ে ফুটবল প্রশাসনে অসন্তোষ বাড়ায় আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।
কিন্তু সেফেরিন ও মন্তাগলিয়ানির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নির্বাচনী হিসাব অনেকটাই বদলে গেছে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাঁদের নাম আলোচনায় থাকলেও এখন দুজনই নিজ নিজ সংস্থার নেতৃত্ব ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
ফিফার বদলে উয়েফার নেতৃত্বে থাকতে চান সেফেরিন
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ফিফা সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ফিফার নির্বাচনে না লড়ে উয়েফার সভাপতি পদে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সেফেরিনের এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ইনফান্তিনোর সামনে বড় একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা কমে এসেছে। যদিও ফিফার পরিচালনব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উয়েফার সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।
ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে সেফেরিন বলেন, ‘ফুটবল বিক্রির জন্য নয়— উয়েফা বহু বছর ধরে এই বার্তা বহন করে আসছে। আমাদের ঐক্য ও সুশাসন ফিরিয়ে আনাই এখন মূল কাজ।’
তাঁর বক্তব্যে ফুটবল পরিচালনায় ঐক্য ও সুশাসনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনের উদ্বেগও সামনে এসেছে।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন মন্তাগলিয়ানিও
ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় ছিলেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি। তবে তিনিও ফিফা সভাপতি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নিজের সংস্থার নেতৃত্বে আরেক মেয়াদে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দুই প্রভাবশালী ফুটবল কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তে ফিফার সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে নতুন কোনো প্রার্থী সামনে না এলে তাঁর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।
বিতর্কের মধ্যেও এগিয়ে ইনফান্তিনো
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্ক এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থার আপত্তি ইনফান্তিনোর জন্য চাপ তৈরি করেছিল। তবে সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরে দাঁড়ানোয় আপাতত সেই চাপ কিছুটা কমেছে।
তবু পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। নির্বাচনে নতুন প্রার্থী আসেন কি না এবং ফিফার সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলো কাকে সমর্থন করে, তার ওপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল।
সব মিলিয়ে, ফিফার সভাপতি পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে ইনফান্তিনো এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে তাঁর নতুন মেয়াদ নিশ্চিত হতে হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

