দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্রাজিলিয়ান লিগের শীর্ষ দল ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে সান্তোস।
বৃহস্পতিবার ভিলা বেলমিরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে প্রথমার্ধেই দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সান্তোস। ফ্লামেঙ্গোর হয়ে গোল দুটি করেন দানিলো ও লুকাস পাকেতা। ফলে বিরতির সময় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল স্বাগতিক দল।
নেইমার পুরোপুরি ফিট কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকায় তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেননি সান্তোসের কোচ। তবে বিরতির পর ফিলিপ কৌতিনিওর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। মাঠে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁর দুই পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে সান্তোস।
গত ২ সেপ্টেম্বর পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে ডান ঊরুর পেশিতে চোট পেয়েছিলেন নেইমার। সেই চোটের কারণে এরপর থেকে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে শুরু থেকেই নিজের ছন্দ খুঁজে পাওয়াটা তাঁর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি সান্তোসের জন্যও বড় প্রাপ্তি।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন নেইমার। এরপর ৮৮ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরান দলকে। তাঁর এই দেরিতে জ্বলে ওঠাই নিশ্চিত করে সান্তোসের মূল্যবান এক পয়েন্ট।
এই ড্রয়ে দুই দলের টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের ধারাও থেমে গেছে। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে ফ্লামেঙ্গোকে। দলটির সংগ্রহ এখন ৬১ পয়েন্ট। অন্যদিকে বাহিয়াকে হারিয়ে পালমেইরাস শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে ফ্লামেঙ্গোর আরও কাছে চলে এসেছে।
সান্তোসের জন্য অবশ্য এই ফল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। ২৯ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে দলটি। চোট কাটিয়ে নেইমারের এমন প্রত্যাবর্তন মৌসুমের বাকি অংশে দলটির অবস্থানের উন্নতির আশা আরও জোরালো করতে পারে।
আগামী রোববার, ১১ অক্টোবর আবারও মাঠে নামবে দুই দল। সান্তোসের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মিনেইরো। অন্যদিকে ফ্লামেঙ্গো মুখোমুখি হবে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লুমিনেন্সের। এরপর দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে হবে ফ্লামেঙ্গোকে। ১৫ অক্টোবর কোপা লিবের্তাদোরেসের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আর্জেন্টিনার এস্তুদিয়ান্তেসের মাঠে খেলবে দলটি।
সব মিলিয়ে চোট কাটিয়ে নেইমারের প্রত্যাবর্তন সান্তোসের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। ম্যাচের শেষ আট মিনিটে করা তাঁর দুই গোল শুধু দলকে পরাজয় থেকে বাঁচায়নি, মৌসুমের বাকি অংশে ভালো করার আশাও জাগিয়েছে।

