তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি ভবনের নিচের তিনটি তলা ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে ইস্তাম্বুলে ভবনধসের এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় নগর কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে পাঁচ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশু এবং ১২ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। বাকি দুই নিহতের পরিচয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনায় ভবনটির নিচের তিনটি তলা ধসে পড়লেও ওপরের চারটি তলা ধ্বংসস্তূপের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৫৫ জনকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
ইস্তাম্বুলের উপমেয়র নুরি আসলান জানান, ভবনটি ১৯৮৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ের নির্মাণবিধি মেনে এর বেসমেন্ট, নিচতলা, প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ভবনটির ওপরের তলাগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, ভবনটির সম্ভাব্য কাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির নিচতলায় থাকা একটি দোকানের ব্যবস্থাপক গত এপ্রিল থেকেই কাঠামোয় ফাটল দেখতে পেয়েছিলেন। তবে ওই ফাটলের সঙ্গে ভবনধসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব বলছে, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ইস্তাম্বুলে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নগরীর ভবনগুলোর নির্মাণমান ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এর আগে গত আগস্টেও ইস্তাম্বুলে একটি পরিত্যক্ত ভবন ধসে পড়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানির পর শহরের পুরোনো ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: এএফপি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

