spot_imgspot_img

সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানেই দরিদ্র মানুষের আত্মনির্ভরতা: মেয়র শাহাদাত

মো. মোক্তার হোসেন বাবু :
spot_img

মো. মোক্তার হোসেন বাবু :
দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেরাই আয় করে পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চসিকের সম্মেলন কক্ষে নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা অর্জনে সহায়তা প্রকল্পের আওতায় সেলাই মেশিন, কম্পিউটার ও ফুড কার্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতে তুলে দিলে দরিদ্র মানুষকে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব। এতে তারা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবেন। একই সঙ্গে নগরের নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটবে।

সেলাই মেশিন-কম্পিউটার ও ফুড কার্ট

প্রকল্পের আওতায় ৪৮টি সেলাই মেশিন, ৪১টি কম্পিউটার এবং ৬৮টি ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, এসব উপকরণ প্রাপকদের নিজস্ব কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি পরিবারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, সেলাই মেশিন ও কম্পিউটার তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। অন্যদিকে ফুড কার্টের মাধ্যমে অনেকের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার পথ তৈরি হবে।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্যেও সহায়তা

মেয়র বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য নেওয়া এ প্রকল্পকে শুধু কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না। স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও এর অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় নগরের ৮০৪ জন দরিদ্র ও হতদরিদ্র গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মাকে পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৩ জন দরিদ্র কিশোরীর মধ্যে হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।

অন্ধকার এলাকায় ৪৫ সোলার লাইট

নগরের নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চসিকের আওতাধীন সিডিসির যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, সেসব এলাকায় ৪৫টি সোলার লাইট স্থাপন করা হবে বলে জানান মেয়র শাহাদাত।

তিনি বলেন, নগর উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা, ভবন বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না। মানুষের জীবনমান, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা এবং নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাও নগর উন্নয়নের অংশ।

মেয়র বলেন, নগরের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে চসিক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

চীন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় এবং অনলাইনে ইউএনডিপির আন্তর্জাতিক প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ