মো. মোক্তার হোসেন বাবু: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে এ পর্যন্ত মোট ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হলো।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এসব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে রোববার চারজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি আসামিপক্ষের জেরাও শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আগামী ৪ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
যেভাবে ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঋণের টাকা উত্তোলনের পর তা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। পরে ওই অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে বলে মামলার তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ৯২ সাক্ষী
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
অভিযোগপত্রে মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।
আসামিদের তালিকায় যারা
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং রোকসানা জামান চৌধুরী।
এ ছাড়া ইউসিবিএলের সাবেক কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তা এবং জাবেদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। পরে ওই ৩১ আসামির মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তদন্তে নতুন করে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।




