মো.মোক্তার হোসেন বাবু : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অটোরিকশার স্টেশন। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের পশ্চিম পাশের সিইউএফএল সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে বসেছে কাঁচাবাজার ও ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান। কোথাও ফুটপাত, আবার কোথাও সড়কের একাংশ দখল করে চলছে বেচাকেনা। ফলে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
অল্প জায়গা দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলাচল করায় দিনের বিভিন্ন সময়ে সড়কে যানজট লেগেই থাকছে। সকাল ও বিকেলে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেএসআই) ছুটির সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় যানজট সামলাতে বাজারে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও হিমশিম খেতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্টেশন পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। যাত্রী ওঠানামা এবং গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাতরী চৌমুহনী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও বর্তমানে এর সড়ক ও ফুটপাতের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। হকারদের দোকানের কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে পথচারীদের যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কে বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের চলাচলেও নানা ধরনের বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
পথচারীদের ভাষ্য, আনোয়ারার পাশাপাশি বাঁশখালী, চন্দনাইশসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চাতরী চৌমুহনী বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু সড়ক দখল করে দোকান বসানো এবং যত্রতত্র অটোরিকশা রাখার কারণে এখন বাজারে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাতরী বাজারে দায়িত্ব পালনকারী এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ হকারদের দখলে থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিলে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার বলেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারের সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্টেশন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত যানজট নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চাতরী চৌমুহনীতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।




