তরুণ উদ্যোক্তাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নে ব্যবসায়ী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই উদ্যোগের ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছিল এবং নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল জানায়, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও জানান তারা।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে। এ সময় তারা ব্যবসা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও সম্ভাবনার বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। তবে গণতন্ত্র অর্জনের পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সুযোগের অপব্যবহার করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অতীতে লুটপাটের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ক্ষতির মুখে পড়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ী সমাজের আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




