spot_imgspot_img

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে টানতে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ‘নাটক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সংঘাত উসকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি বিমান ছিনতাইয়ের ‘নাটক’ সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছে ইরানি একটি সূত্র। পরিকল্পনাটির সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংশ্লিষ্টতার দাবিও করা হয়েছে।

- Advertisement -

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরাইলগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে এর দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের ঘটনার সঙ্গে ওই পরিকল্পনার যোগসূত্র থাকার দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রেসটিভি ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে একটি অজ্ঞাত আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের কয়েক দিন আগে আবুধাবিতে গোপন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমিরাত ও কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

ইরানি সূত্রটির দাবি, ওই বৈঠকে এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়, যাতে আমিরাত থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বিমানকে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হবে। পরে ঘটনাটির দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করাই ছিল কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য।

ক্ষমতা ধরে রাখতেই এমন উদ্যোগ?

প্রেসটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহুর কথিত পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে সম্পৃক্ত করা।

ইরানি সূত্রটির আরও দাবি, আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক জোটের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই নেতানিয়াহু এমন ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের কথা ভাবছেন। ক্ষমতা হারালে তাকে বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রেসটিভি কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। যে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে, তার পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ককপিটে বিরোধ, সৌদিতে ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

এরই মধ্যে বুধবার ১৭৪ যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও বিরোধের কারণে কাছের বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলটরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে উড়োজাহাজের যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন।

ঘটনাটি তদন্ত করছে সৌদি আরবের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কেন্দ্র। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলগামী ও ইসরাইল থেকে আসা ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই।

নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর ঘিরে তেহরানের প্রতিক্রিয়া

ফ্লাইটের ঘটনার আগে নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি আবুধাবিকে সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানোর পরিণতি ভালো নাও হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নেতানিয়াহুর সফরকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করতে পারে।

তবে বিমান ছিনতাইয়ের কথিত পরিকল্পনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের জরুরি অবতরণের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ