spot_imgspot_img

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৫১ টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জে

মো.মোক্তার হোসেন বাবু:
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু: দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিকের ৯টি কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কনটেইনারে থাকা প্রায় ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন রাসায়নিক পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।

- Advertisement -

ধ্বংসের জন্য নির্ধারিত রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে একটি কনটেইনারে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, একটি কনটেইনারে ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, পাঁচটি কনটেইনারে ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং দুটি কনটেইনারে ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের জট নিরসনে কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী রাসায়নিক ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সুপারিশ এবং কাস্টম হাউস চট্টগ্রামের ধ্বংস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব রাসায়নিক ধ্বংস করা হবে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ধ্বংসের জন্য রাসায়নিক বহনকারী যানবাহনগুলো পুলিশি নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় ধ্বংস কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঝুঁকিপূর্ণ এই রাসায়নিক পরিবহনের সময় নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তায় রয়েছে বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়ন।

বন্দরে বছরের পর বছর পড়ে থাকে পণ্য

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানোর পর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে পণ্য খালাস করতে হয়। কিন্তু পণ্যের বাজারমূল্য কমে যাওয়া, লোকসানের আশঙ্কা, মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকি, ছাড়পত্র না পাওয়া কিংবা মামলা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস করেন না।

এভাবে বছরের পর বছর বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকে বিভিন্ন পণ্যভর্তি কনটেইনার। কোনো আমদানিকারক পণ্য খালাস না করলে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে তা নিলামে তোলার বিধান রয়েছে। তবে নিলামে বিক্রি না হলে অথবা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।

আগেও ধ্বংস হয়েছে বিপজ্জনক পণ্য

এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের পি শেডে প্রায় দুই দশক ধরে পড়ে থাকা ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক সুনামগঞ্জের লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।

সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ১২৬ কনটেইনারের বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট পণ্য ধ্বংস করে কাস্টম হাউস। এর মধ্যে ছিল ৩৪ কনটেইনারে থাকা ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ, ফিড গ্রেড লাইমস্টোন, বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট নারিকেলসহ বিভিন্ন খাদ্য ও শিল্পপণ্য।

এ ছাড়া গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে পাঁচ কনটেইনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও শ্যাম্পুসহ পারসোনাল কেয়ার পণ্য ধ্বংস করা হয়।

বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পচনশীল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য দ্রুত ধ্বংস করা হলে একদিকে যেমন বন্দরের কনটেইনার জট কমবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনা ও পরিবেশগত ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার শিপিং এজেন্টের কাছে ফেরত যাওয়ায় বন্দরের জায়গার ওপর চাপও কমবে।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ