দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করে উন্নত, দক্ষ ও শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই মনে করেন অস্ত্র কিংবা পারমাণবিক শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তবে বাস্তবে দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উন্নত ও উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। দক্ষ ও যোগ্য প্রজন্ম তৈরি করতে হলে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সরকারি সুবিধা বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে শিক্ষকদের বেতন ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করেন। এরপর ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকার বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আওতায় শতভাগ বেতন-ভাতা নিশ্চিত করে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ২৯ হাজার মাধ্যমিক ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক যে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন, এর পেছনে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সহজীকরণে বর্তমান সরকারের নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি।
শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ এবং জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা মোমেনবাগ খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার।
অনুষ্ঠানে পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

