ইসরাইলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাচ্ছে সেনা ও যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা মোকাবিলায় ইসরাইলে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এসব সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম ইসরাইলে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

- Advertisement -

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লার এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। তাদের একটি অংশ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন। অন্যরা বিমান পরিচালনা, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ এবং ইসরাইলি সামরিক সদর দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন সেনাদের ইউনিট পর্যায়ে নিয়মিত রদবদল চলছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই নতুন সেনা ও যুদ্ধবিমান ইসরাইলে মোতায়েন করা হবে। এর ফলে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

ওয়াল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষরা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও কীভাবে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলা যায়, তারা সেই পথ খুঁজছে। ওই কর্মকর্তা আরও সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষরা বুঝতে পারছে যে এবার কোনো হামলার জবাবে ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর হতে পারে।

সেন্টকমের সঙ্গে সামরিক পরিকল্পনা

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান থেকে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে কীভাবে তার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরানের ভেতরে সম্ভাব্য কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হতে পারে—এসব বিষয়কে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত তুলে ধরেছিল ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে ঘিরেও নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের সম্ভাবনা দেখছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ার বিষয়টি ইসরাইল গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যারা এখন হুথিদের মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হবে, ভবিষ্যতে তাদের এককভাবে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সর্বশেষ