মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আবদুর রহিম গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন-এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাঁ রূপসা বেকারি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত ক্রাশ প্রোগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মেয়র।
শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আবদুর রহিম বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। সেই সময়ে থানার দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুলশী থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মেয়রের অভিযোগ, খুলশী থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিতভাবে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়নি। এর পাশাপাশি সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেয়র বলেন, ওয়াকিলের দুই ভাই তার কাছে এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কামরুলকে মারধর করে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও নাকচ করেন মেয়র। তার গাড়িতে কোনো আসামি বা ওয়াকিল উঠেছিলেন-এমন প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, তিনি প্রকাশ্যেই গাড়িতে ওঠানামা করেন এবং গাড়ির আশপাশে সিসিটিভি রয়েছে। কেউ তার গাড়িতে উঠেছেন বা বের হয়েছেন-এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন।
শাহাদাতের ভাষ্য, ওয়াকিল নিজে তার কাছে আসেননি। তার দুই ভাই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। ওয়াকিল যদি পরে সেখানে এসে থাকেন, সেটি পুলিশের দায়িত্বের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতে পারে। সামনে নির্বাচন থাকায় তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আবদুর রহিমের অতীত দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে মেয়রের এসব অভিযোগের বিষয়ে আবদুর রহিমের বক্তব্যও এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, বাকলিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ওই সময়ে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে গত এক সপ্তাহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মেয়রের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার পরই খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে সিএমপির বিশেষ শাখা (সিটিএসবি)-তে বদলি করা হয়। সিএমপি জানিয়েছে, এটি নিয়মিত বদলির অংশ। একই আদেশে নগরের আরও দুই থানার ওসি পদেও রদবদল করা হয়েছে।

