নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১ জনে। আর বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩৩৫ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের অংশে। এ সময়ে সেখানে ৪০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০৬ জন এবং খুলনা বিভাগে ২০৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ জন, রংপুর বিভাগে ৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। এর বিপরীতে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও অনেক রোগী। তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ধারাবাহিকতা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। তাদের মধ্যে ৮৩ হাজার ৩৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো জরুরি।
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। ফলে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি, পেটব্যথা কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু এখনো দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করে রেখেছে। একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়াকেই ডেঙ্গু মোকাবিলার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




