আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার অপেক্ষায় লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। মেসির সম্ভাব্য বিদায় ঘিরে যখন ফুটবলবিশ্বে আবেগের আবহ, তখন সেই অনুভূতিতে যোগ দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ নেইমার।
বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানো মেসিকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা। তার বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে বিশেষ আয়োজনও শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনায়।
তবে মেসিকে ঘিরে এই আবেগ শুধু আর্জেন্টিনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্রাজিলের তারকা নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মেসির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বার্সেলোনায় লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে মেসি-নেইমার যে আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিলেন, তা ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্র ছিল। পরে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়েও সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন দুজন। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে তাদের বন্ধুত্বও ছিল আলোচিত।
মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিই যেন ফিরে এসেছে নেইমারের কথায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ফুটবলপ্রেমীরা বছরের পর বছর মেসির খেলা উপভোগ করেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে মেসি যেন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন, সেই প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
মেসির ফুটবলে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেইমার বলেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্বের মানুষ তার ফুটবল উপভোগ করেছে। মেসির কাছ থেকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মেসির বিপক্ষে মাঠে নামতে পারা এবং তার সঙ্গে একই দলে থেকে ইতিহাসের অংশ হতে পারাকে নিজের জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন নেইমার। শেষ পর্যন্ত বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ, লিও।’
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পূর্ণতা
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল কিশোর বয়সে। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টের একাধিক ফাইনালে পরাজয়ের পর দীর্ঘ সময় সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাকে।
তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাফল্য তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এক অধ্যায়ের সম্ভাব্য সমাপ্তির মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

