রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে বুধবার। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানের বহরে আসবে নতুন বৈচিত্র্য।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ কেনা হবে। দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ছয়টি এ৩২১নিও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের ‘উৎসব হল’-এ ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তিতে এয়ারবাসের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার। বিমানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর উপস্থিত থাকবেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে আগামী এক দশকে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে দূরপাল্লা, আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অক্টোবরের মধ্যেই ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সম্পন্ন হবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরেই চুক্তি সই হবে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে সরবরাহ শেষ হতে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িং উড়োজাহাজও বিমানের ভবিষ্যৎ বহরে বড় জায়গা দখল করবে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮। পরে আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত হওয়ায় মোট প্রস্তাবিত বোয়িং উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।
অন্যদিকে নতুন ১০টি এয়ারবাস কেনার প্রক্রিয়া শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিমানের বহরে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
তবে নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিমান। ওই সময় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিমান সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস ও বোয়িং উড়োজাহাজের সমন্বয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া বহরটি ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির রুট সম্প্রসারণ ও যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

